ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ফি না নিলে তিনি কী খেয়ে বেঁচে আছেন, জবাব দিলেন ডা. মাহবুব

প্রকাশ: ১৭ মার্চ, ২০২২ ১১:৩১ : অপরাহ্ণ

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় তার দেওয়া একটি বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ফি না নিয়ে ১ হাজারেরও বেশি মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপন করায় একদিকে তিনি প্রশংসায় ভাসছেন অন্যদিকে নেটিজেনরা এ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন। তাদের কৌতুহল ফি না নিলে ডাক্তার সাহেব কী খেয়ে বেঁচে আছেন?

তাদের এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ঢাকা মেডিকেলের কে-৩৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী অধ্যাপক ডা. মাহবুব মোতানাব্বি। ডা. কামরুলও ঢাকা মেডিকেলের কে-৪০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে ডা. মাহবুব মোতানাব্বি বলেন, এ বছর চিকিৎসায় স্বাধীনতা পদক পেয়েছে ডা. কামরুল ইসলাম। ঢাকা মেডিকেলে সে আমাদের পাঁচ ব্যাচ জুনিয়র। অর্থাৎ আমরা যখন ফাইনাল পরীক্ষার্থী,তখন তারা ঢাকা মেডিকেলে ঢুকে। তারপর ১৯৯০ সালে এম বি বি এস পাস করার পর ৯৫ সাখে এফসিপিএস, ২০০০ এএমএস ও ২০০৩ এ এফআরসিএস শেষ করে সে। তারপর জাতীয় কিডনি ইন্সটিটিউটে সহকারী অধ্যাপক থাকাকালে সে ২০১১ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেয়।

২০১৪ সালে শ্যামলীতে প্রতিষ্ঠা করে ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজ’।এ পর্যন্ত হাজারের ওপর কিডনি সংযোজন করেছে সে। নিজের ফি না নেয়ায় তার প্রতিষ্ঠানে কিডনি সংযোজনের খরচ দাঁড়িয়েছে কমবেশি দু লাখ টাকা যা বিদেশে করতে গেলে ন্যূনতম ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ হয়ে যাবে। এ সবের পর তার এ পুরস্কার পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু দেখলাম, সে মন্তব্য করেছে, দুনিয়ার এ পুরস্কারপ্রাপ্তিতে তার ভয় হয়, দুনিয়ায় সব পেয়ে গেলে আখেরাতের পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হয় কিনা। খুবই বিনয়াবনত চিন্তাভাবনা। কিন্তু এখানে অন্য কিছু বিষয় আছে।

ডা. মাহবুব মোতানাব্বি আরও বলেন, এতো বড় কাজগুলো সে করেছে সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে। নিজস্ব উদ্যোগে। টাকার লোভে যে করেনি, বোঝাই যাচ্ছে, বিনা পারিশ্রমিকে অপারেশন করার মাধ্যমে। এ কাজ তো সরকারি খাতে তৈরি অবকাঠামোতে করতে পারতো। কেন পারেনি, এটিই কোটি টাকার প্রশ্ন।

তিনি বলেন, ‘একজন সহকারী অধ্যাপক জানেন না, কবে অধ্যাপক হতে পারবেন। অনেক সময় বসার জায়গাও পান না। সারাক্ষণ বদলি আতঙ্কে থাকেন। অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, এমনকি নিজ ইউনিট প্রধান থেকেও ভালো ব্যবহার বা কাজের স্বাধীনতা পান না। মহাপরিচালকের দফতর, মন্ত্রণালয় সর্বত্র অসহযোগিতা পেতে পেতে একসময় তার প্রাণশক্তি শেষ হয়ে যায়। এই অন্ধ চক্র থেকে বের হতে পারলে অনেকেই হয়তো কামরুলের মতো বা তার কাছাকাছি পারফরম্যান্স দেখাতে পারতো।’

একজন পরোপকারী ও নির্লোভ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম তার বন্ধুদের কাছে একজন ভরসার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যয়ভার গ্রহণের কারণেও তিনি তার ঘনিষ্টদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আমাদের ব্যাচের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনে কখনও আমাদের আগে টাকা দিতে হয় না। অনুষ্ঠান শেষে টাকা তোলা হয়। আর টাকা যদি শর্ট পড়ে তখনও কিন্তু আমাদের চিন্তা করতে হয় না-কারণ কামরুল আছে। ওই সব টাকা দেয়।

১১তম বিসিএস অফিসার্স ফোরামের সভাপতি যুব ও ক্রীড়া সচিব মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ১১তম বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে কামরুলের নামে একটি সরকারি প্লট বরাদ্দ হয়েছে। আমি ওই ব্যাচের সভাপতি হিসেবে তাকে বললাম, দোস্ত, তোমার প্লটটি কোথায় আছে তা দেখে যাও। কিন্তু কামরুল কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি, সে উত্তর দিল-বন্ধু আমি তো সাড়ে তিন হাত জায়গা (আখেরাত) নিয়ে চিন্তায় আছি।

ডা. মাহবুব মোতানাব্বি আরো বলেন, কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো পারিশ্রমিক না নিলে ডাক্তার সাহেব কী খেয়ে বেঁচে আছেন? মনে রাখতে হবে, সে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেছে। আয়ের উৎস তার আছে। তবে এই খাত থেকেও সে চাইলে প্রচুর আয় করতে পারতো। মহান আল্লাহ তার (অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের) আখেরাতের পুরস্কারের আশা পূর্ণ করুন।

Print Friendly and PDF
ব্রেকিং নিউজঃ