ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মানবতাবিরোধী অপরাধ নেত্রকোনার বদর কমান্ডার খলিলের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৬:৩৪ : পূর্বাহ্ণ

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে নেত্রকোনার আল-বদর কমান্ডার খলিলুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন।

মুক্তিযুদ্ধে সময় নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দায় ২২ জনকে হত্যা, একজনকে ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল এ মামলায়। রায়ে সবগুলো অভিযোগেই তাকে দোষী প্রমাণ করতে পেরেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

এর মধ্যে চারটি অভিযোগে পলাতক এ আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং একটি অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

 

রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলায় ছিলেন প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী তামিম বলছেন, ‘তার মক্কেল ন্যায়বিচার পাননি। তবে আইন-আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দণ্ডিত এ আসামি যদি আত্মসমর্পণ করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন, তবে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন। ’

মামলায় বলা হয়, ১৯৭১ সালে ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্য খলিলুর রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। পরে চণ্ডিগড় ইউনিয়ন আল-বদর বাহিনীর কমান্ডার হন। সে সময় মুসলিম লীগের সমর্থক আজিজুর, আশক ও শাহনেওয়াজ একই ইউনিয়নে রাজাকার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। আসামিদের সবাই এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

এ মামলার অভিযোগ তদন্ত করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা বদরুল আলম। ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল তদন্ত শুরু হয় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে। দুই বছর তদন্তের পর ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় তদন্ত সংস্থা। সে সময় আসামি ছিলেন ৫ জন। তাদের মধ্যে রমজান আলী নামের এক আসামি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

অপর চার আসামি নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের মো. খলিলুর রহমান, তার ভাই মো. আজিজুর রহমান, একই থানার আলমপুর ইউনিয়নের আশক আলী এবং জানিরগাঁও ইউনিয়নের মো. শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

সে সময় চার আসামির মধ্যে খলিলুর রহমান পলাতক ছিলেন। বিচার চলাকালে কারাগারে থাকা তিন আসামিও মারা যান বিভিন্ন সময়ে। ফলে মঙ্গলবার কেবল খলিলের বিরুদ্ধেই রায় ঘোষণা করলেন আদালত।

Print Friendly and PDF
ব্রেকিং নিউজঃ