ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

গ্রিসে বিধ্বস্ত মালবাহী বিমানে ছিল মর্টার শেল, আসছিল বাংলাদেশে

প্রকাশ: ১৭ জুলাই, ২০২২ ১২:০৫ : অপরাহ্ণ

গ্রিসের উত্তরাঞ্চলের কাভালা শহরের কাছে মালবাহী একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর তরফে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বলেছে, সার্বিয়া থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর জন্য ক্রয়কৃত প্রশিক্ষণের মর্টার শেল বহনকারী একটি বিমান গ্রিসে বিধ্বস্থ হয়। তবে উক্ত চালানে কোন অস্ত্র ছিল না এবং উক্ত চালানটি বীমার আওতাভুক্ত। ’

আজ রবিবার (১৭ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় আইএসপিআর।

 

আইএসপিআর আরো বলেছে, ‘ডিজিডিপি (ডাইরেক্টরেট জেনারেল অফ ডিফেন্স পারচেজ) ক্রয় চুক্তির আওতায়, কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই প্রশিক্ষণ মর্টার শেল ক্রয় করা হয়। ’

এদিকে সার্বিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত বিবিসির তথ্যমতে, ওই কার্গো বিমানে ১১ টন অস্ত্রশস্ত্র ছিল। ইউক্রেনভিত্তিক কম্পানির পরিচালিত আন্তোনভ-১২ বিমানটি শনিবার (১৭ জুলাই) যেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে, তার দুই কিলোমিটারের ভেতরে বসবাসকারীদের ঘরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিমানটি প্রাথমিকভাবে সার্বিয়া থেকে জর্ডানে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কাভালা শহরের কাছে বিধ্বস্ত হলে বিমানে থাকা ৮ জনই প্রাণ হারায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটিতে আগুন লেগেছে এবং এটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় বিশাল আগুনের কুণ্ডলি দেখা গেছে।

স্থানীয় সময় আজ রবিবার (১৭ জুলাই) সকালে বিমান বিধ্বস্তের স্থানটি খতিয়ে দেখতে ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জায়গাটি নিরাপদ মনে না করা পর্যন্ত সেনাবাহিনী, বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ এবং গ্রিক এটোমিক এনার্জি কমিশনের কর্মীরা সেখানে যাবেন না।

গ্রিসের উত্তরাঞ্চলের ফায়ার ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট জেনারেল মারিউস অ্যাপোসটোলিডিস বলেছেন, এই মুহূর্তে (বায়ু) পরিমাপ করে ভিন্ন তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি; তার পরেও সেখানে অস্থিরতা পরিলক্ষিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, অন্যদিকে ব্যাপক ধোঁয়া এবং তাপ; সেই সঙ্গে সাদা পদার্থ দেখা গেছে, যা আমরা চিনতে পারিনি। সে কারণে বিশেষ সশস্ত্র বাহিনীর দল আমাদেরকে আগে জানাবে যে, সেটি কী এবং আমরা মাঠে প্রবেশ করতে পারব কি না।

উড্ডয়নের পরপরই ইঞ্জিনে সমস্যার কারণে কাভালা বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের অনুরোধ করেছিলেন বিধ্বস্ত বিমানটির পাইলট। তবে তিনি বিমানটি নিয়ে রানওয়েতে পৌঁছাতে পারেননি।

স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে বিমানটি সেখানকার বাসিন্দাদের নজরে আসে। স্থানীয় বাসিন্দা আইমিলিয়া সাপ্তানোভা বিমানটিকে নিচের দিকে নেমে আসতে দেখেছেন। তিনি বলেছেন, বিমানটি আমাদের বাড়িতে বিধ্বস্ত হয়নি দেখে অবাক হয়েছি। তিনি আরও বলেন, বিমানটি ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। ব্যাপক গোলমাল ছিল। আমি বিষয়টি বর্ণনা করতে পারব না। বিমানটি পাহাড় অতিক্রম করে ঘুরে গিয়ে মাঠের মধ্যে বিধ্বস্ত হলো।

তিনি আরও বলেন, সেখানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। আমরা ভয় পাচ্ছিলাম। অনেক গাড়ি এসেছিল। কিন্তু কোনোটিই কাছে যেতে পারেনি। কারণ, সেখানে লাগাতারভাবে বিস্ফোরণ ঘটছিল।

সার্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী নেবোজা স্টেফানোভিচ বলেছেন, আন্তোনভ এএন-১২ বিমানটিতে করে সার্বিয়ার তৈরি প্রায় ১১ টন অস্ত্রসস্ত্র বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

বিবিসি জানিয়েছে, মালবাহী বিমানটি ঢাকার চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে জর্ডান, সৌদি আরব এবং ভারতে যাত্রা বিরতির কথা ছিল।

Print Friendly and PDF
ব্রেকিং নিউজঃ