ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রিজার্ভের ওপর চাপ বেড়েই চলেছে

প্রকাশ: ১৪ জুলাই, ২০২২ ৬:৫৭ : পূর্বাহ্ণ

একদিকে বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি, অন্যদিকে কমছে রেমিট্যান্স। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম এবং পরিবহনের খরচ বাড়তে থাকায় আমদানি ব্যয়ের লাগামও টানতে পারছে না সরকার। এর চাপ গিয়ে পড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর। এমন পরিস্থিতিতে আমদানি ব্যয় কমাতে এবং রেমিট্যান্স বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। কিন্তু এর কোনো সুফল তো চোখে পড়ছেই না, উল্টো রিজার্ভের ওপর চাপ বেড়েই চলেছে। নীতিগত ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেই রিজার্ভ নিয়ে চলমান সংকট কাটছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪১ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু গত মঙ্গলবার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সদস্যভুক্ত দেশগুলো থেকে আমদানি ব্যয় বাবদ ১৯৬ কোটি ডলার পাওনা পরিশোধের পর রিজার্ভের দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে। গতকাল বুধবার ডলার বিক্রির পর রিজার্ভ আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারে। গত দুই বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন রিজার্ভের রেকর্ড।

এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে রিজার্ভ নিম্নমুখী। তবুও সরকার রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে। আর আমদানি ব্যয় কমাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু আমদানি ব্যয় কমেনি। ডলারের বিনিময় হার বাজারের চাহিদা অনুয়ায়ী হতে হবে। এখানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আরও অনেক কাজ করতে হবে। কাজ না করলে ডলারের মজুত আরও কমবে।’ সরকারের নীতিগত এবং ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার সমালোচনা করে অর্থনীতির এই বিশ্লেষক বলেন,

‘ডলারের দাম বাজারের চাহিদা অনুযায়ী হতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক তা করছে না। গতকাল মঙ্গলবার ৯৩ টাকা ৯৫ পয়সা দরে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো আমদানিকারকদের কাছে সেই দামে ডলার সরবরাহ করছে না। আমদানিকারকেরা বেশি দামে ডলার কিনছেন। এটা ভুল নীতি। এ ছাড়া ডলারের দাম বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারণ করা না হলে বৈধপথে রেমিট্যান্স আসা কমে যাবে। যার ফলে রিজার্ভ আরও তিন-চার মাস কমতে থাকবে।’

ডলারের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক ৯৩ টাকা ৯৫ পয়সা দরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো কাছে ৯ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। তার আগের দিন ডলারের রেট ছিল ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা। আর এক বছর আগে এই রেট ছিল ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সরকার আমদানি ব্যয় কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে। সেগুলোর বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে হবে। যার ফল আসতে ৫-৬ মাস সময় লাগতে পারে। তখন ডলারের চাহিদা কমবে। তখন ডলার বিক্রি করতে হবে না। তবে ডলার বিক্রি বন্ধ না হলে রিজার্ভ আরও কমতে পারে।’ বর্তমান পরিস্থিতিতে বাণিজ্য ঘাটতি কমার অপেক্ষায় না থেকে রিজার্ভ সহায়ক পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে ঈদুল আজহা ঘিরে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের পাঠানোর হার বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের আগের ৭ দিনে ৯০ কোটি ৯৩ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে। দেশীয় মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা) এ অর্থের পরিমাণ ৮ হাজার ৪৯৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল ৯৩ টাকা ৯৫ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করা হয়েছে। আর আকু পেমেন্টের কারণে রিজার্ভ কমেছে। প্রবাসী আয় বাড়লে ও বাণিজ্য ঘাটতি কমলে রিজার্ভ বাড়বে।’ রিজার্ভ এখন ভালো অবস্থায় রয়েছে বলেও দাবি করেন এই কর্মকর্তা।

Print Friendly and PDF
ব্রেকিং নিউজঃ