ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন: ৮১ প্রকল্পের বরাদ্দ স্থগিত

প্রকাশ: ০৫ জুলাই, ২০২২ ৬:৩৯ : পূর্বাহ্ণ

সরকারের উন্নয়ন প্রচারে দেশের ‘৪৯২টি উপজেলায় এলইডি ডিসপ্লে স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প নিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩২ কোটি টাকা। এর আওতায় সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, তথ্য ও সেবাগুলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রচারের মাধ্যমে নাগরিক সম্পৃক্ততা ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার আশা করছে এ বিভাগ। তবে প্রকল্পটিতে চলতি বছর অর্থ বরাদ্দ স্থগিত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। শুধু এ প্রকল্পই নয়, সরকারের ব্যয়সংকোচন নীতির কারণে এমন ৮১টি প্রকল্পে ব্যয় করতে পারবে না এ বছর।

ব্যয়সংকোচন নীতি বা কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে সরকারি গাড়ি কেনা, বিদেশভ্রমণ, সভায় সম্মানী বাদের পাশাপাশি প্রকল্প ব্যয়েও লাগাম টানছে সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়নে নজর দেওয়া হবে গুরুত্ব বুঝে। এতে মধ্যম গুরুত্বের প্রায় সাড়ে ৬০০ প্রকল্পের চার ভাগের এক ভাগ অর্থ খরচে বাধা পড়ল। আর কম গুরুত্বপূর্ণ ৮১টি প্রকল্পে অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। সব মিলিয়ে সাত শতাধিক প্রকল্পে বরাদ্দ ব্যয়ে লাগাম পড়ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রকল্পগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ, বর্তমান সময়ের উপযোগিতা, প্রকল্পে সুবিধাভোগীর সংখ্যা—এসব বিবেচনায় এই শ্রেণি ভাগ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এবং খরচে কোনো বাধা নেই এমন ‘এ’ শ্রেণিতে। এতে প্রকল্প পড়েছে ৬৪৬টি। মধ্যম গুরুত্ব এবং বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ অর্থ খরচ করা যাবে এমন ‘বি’ শ্রেণিতে। এতে প্রকল্পের সংখ্যা ৬৩৬টি। আর সি শ্রেণির বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে ৮১টি। এসব প্রকল্পে অর্থ ছাড় স্থগিত থাকবে। তবে কোনো শ্রেণিতে পড়েনি, এমন প্রকল্প রয়েছে ৯টি। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৩৭২টি প্রকল্পকে হিসাবে ধরা হয়েছে। কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কোন কোন প্রকল্প কোন শ্রেণিতে পড়েছে, তা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন: ৮১ প্রকল্পের বরাদ্দ স্থগিত

চলতি অর্থবছরের এডিপিতে মোট প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৪৩৫টি। এর মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প ৮৫টি।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, ডলার সংকটের মধ্যে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে চায় সরকার। এ জন্য যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের সম্পর্ক রয়েছে, সেগুলোতে ব্যয় কমিয়ে আনা হবে। আর যেগুলো এখনই বাস্তবায়ন জরুরি নয়, সেসব প্রকল্প আরও পরে বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এর আগে রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট-১১ শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে এ-সম্পর্কিত পরিপত্র জারি করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিভুক্ত প্রকল্পগুলো এ/বি/সি ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিভুক্ত বিভিন্ন প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম  বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত ঠিক হয়েছে। যেহেতু আমাদের সীমিত সক্ষমতা, তাই অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পে বেশি বরাদ্দ দেওয়া উচিত। গুরুত্বপূর্ণ না হলেও বিভিন্ন কারণে যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ থাকাই উচিত।

Print Friendly and PDF
ব্রেকিং নিউজঃ