ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজিসহ ৬ জনের বিচার শুরু

প্রকাশ: ১২ জুন, ২০২২ ১০:২৮ : পূর্বাহ্ণ

করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসায় দুর্নীতি কাণ্ডে জড়িত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ আসিফুজ্জামান প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসায় দুর্নীতির বিষয়ে ছয়জনের বিচার শুরু হলো। আগামী ৪ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। ওই দিন মামলার বাদীকে আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৬ জুন অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি হয়। ওই দিন আসামি ছয়জনের পক্ষে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন আইনজীবীরা। শুনানি শেষে আজ রোববার আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়। স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজিসহ জামিনপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে সাহেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। মহানগর দায়রা জজ ও জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য বিশেষ জজ আদালতে প্রেরণ করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা ডা. মো. দিদারুল ইসলাম।

সাহেদ ছাড়া অন্য পাঁচ আসামি জামিনে আছেন। তাঁরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাহেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

 

গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। মামলার এজাহারে স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি ডা. আবুল কালাম আজাদের নাম না থাকলেও তদন্তে তাঁর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ায় পরে চার্জশিটে তাঁকেও আসামি করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী।

এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে লাইসেন্স নবায়নবিহীন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং সম্পাদন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে তিন হাজার ৯৩৯ জন রোগীর করোনা নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষা করান।

এতে আরও বলা হয়, যেখান থেকে অবৈধ পারিতোষিক বাবদ রোগী প্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা হিসেবে এক কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক-নার্স, ওয়ার্ডবয় ও অন্য কর্মকর্তাদের খাবার খরচ বরাদ্দের বিষয়ে এক কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মাসিক চাহিদা তুলে ধরা হয়।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ / ৪২০ / ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

Print Friendly and PDF
ব্রেকিং নিউজঃ