ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

উন্নয়নের সমালোচকদের দেশ ঘুরে দেখার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ১৬ মে, ২০২২ ৯:৫৬ : পূর্বাহ্ণ

সরকারের উন্নয়নের সমালোচনাকারীদের সারা দেশ ঘুরে কথা বলার অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘অবশ্য ঢাকায় বসে অনেকেই সমালোচনা করেন তাঁদের আমার অনুরোধ থাকবে; সারা বাংলাদেশটা আপনারা একটু ঘুরে দেখুন পরিবর্তনটা কোথায় এসেছে, কতটুকু এসেছে। সেটা সকলেই গ্রাম পর্যায়ে একটু যোগাযোগ করলে সেটা জানতে পারবেন।’

আজ সোমবার এসডিজি বাস্তবায়ন পর্যালোচনা বিষয়ক দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলন-২০২২’ অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন।

উন্মুক্ত গণমাধ্যম থাকায় সবাই কথা বলতে পারছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এখন সবাই কথা বলতে পারেন, টকশো করতে পারেন। অবশ্য আমি জানি যে অনেক কথা বলার পরে বলবে, আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয় না। কিন্তু যখন টকশোতে কথা বলেন কেউ তো আপনাদের মুখ চেপে ধরেনি বা গলা চেপেও ধরেনি। সবাই যার যার ইচ্ছে মতো বলতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘সবাইকে আমি বলব, আগে বাংলাদেশটা ঘুরে আসেন গ্রামপর্যায়ে যান সেখানে মানুষ কী অবস্থায় আছে একটু দেখে এসে তারপর কথা বললে আপনারা হয়তো জানতে পারবেন।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘অনেকেই হয়তো এখন সমালোচনা করে এটা করা হচ্ছে কেন? বা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন করা হলো? এত টাকা খরচ হয়েছে। খরচের দিকটা সবাই শুধু দেখে। কিন্তু এই খরচের মধ্য দিয়ে কী লাভবান হবে এবং আমাদের অর্থনীতিতে কতটা অবদান রাখবে। আমাদের উন্নয়ন গতিশীল হবে। মানুষের জীবন পরিবর্তন হবে। সেটা বোধ হয় তারা বিবেচনা করেন না। এটা হচ্ছে খুব দুঃখজনক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার, নদীমাতৃক বাংলাদেশ। সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন একান্তভাবে অপরিহার্য। নৌপথ যত বৃদ্ধি পাবে মানুষের পণ্য পরিবহন তত বৃদ্ধি পাবে। মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধি পাবে, অর্থনীতি সচল হবে। একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করা সহজ হবে। যেটা আমাদের অর্থনীতিকে আরও সচল করবে দারিদ্র্য বিমোচনে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের তৃণমূলের মানুষ সব থেকে বেশি লাভবান হবে।’

দেশের কৃষক, শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই সরকার লক্ষ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষ তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে তাদের একটু উন্নত জীবন দিবো আমাদের লক্ষ্য। এসডিজিতে যে সমস্ত বিষয় গুলো রয়েছে যেগুলো আমাদের জন্য প্রযোজ্য আমরা তা বাস্তবায়ন করেছি এবং বাস্তবায়ন করে যাবো।’ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল হবে, সচল হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্য বিমোচন হবে। আমরা দেশের মানুষের সার্বিক উন্নতি করতে পারব।’

গত দুই বছর কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির কারণে এসডিজি বাস্তবায়ন গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে বলে জানান সরকার প্রধান। বলেন, ‘আমরা আমাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছি।’

সরকার প্রধান বলেন, আমি আশা করি, এ সম্মেলনের মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করার এবং বাস্তবায়ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের পন্থা খুঁজে বের করতে সমর্থ হবে।

আমাদের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহ, এনজিও এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিবর্গও সমানভাবে অংশীদার বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এ সম্মেলনে সকলের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ অধিকতর সহায়ক করা হয়েছে। আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। তিনি বলেন, ‘অবকাঠামো উন্নয়নে মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাত আরও বেশি গতিশীল হবে। এ সম্মেলনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ সম্মেলনের উদ্দেশ্য পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নে আমরা নীতি সহায়তা এবং অর্থের জোগান অব্যাহত রাখবো, তবে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং অপচয় রোধ নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমরা সকলে মিলে এক সঙ্গে কাজ করলে ২০৩০ এর আগেই আমরা নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে এবং ২০৪১ সালের পূর্বেই জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত এবং উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সমর্থ হব।

Print Friendly and PDF
ব্রেকিং নিউজঃ