ঢাকা, রবিবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

হৈ চৈ ফেলেছেন ভারতের নতুন ক্রিকেট সেনসেশন উমরান মালিক

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল, ২০২২ ১১:২৮ : পূর্বাহ্ণ

‘চলতি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে বড় গল্প হচ্ছে উমরান মালিকের উত্থান’- ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ওয়াসিম জাফর এভাবেই এক ফাস্ট বোলারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন টুইটারে।

উমরান মালিক ভারতের ক্রিকেটের নতুন সেনসেশন – জোরে বল করেন তিনি, উঠে এসেছেন জম্মু-কাশ্মীরের থেকে।

২২ বছর বয়সী এই বোলারকে নিয়ে কেবল ওয়াসিম জাফর নন, খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ক্রিকেট বোদ্ধা এবং সমর্থকদের একটা অংশ এখন সরব, প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন তাকে।

 

ভারতের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন টুইটারে বৃহস্পতিবার লিখেছেন, “এই পাঁচ উইকেট নিয়ে উমরান মালিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে নিয়েছেন। সানরাইজার্স ভাগ্যবান যে সে তাদের দলে খেলছে।”

মাত্র গতকালই এক ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন মালিক। আর চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েছেন সানইজার্স হায়দ্রাবাদের এই ফাস্ট বোলার।

২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে উমরান মালিক ভারতের স্কোয়াডের সঙ্গে গিয়েছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেখানে তিনি ছিলেন নেট বোলার।

আইপিএল-এ ১৫০ কিলোমিটার গতির বল

মাত্র দুটি ঘরোয়া ম্যাচ খেলেই উমরান মালিক ২০২১ সালে বিরাট কোহলির নজরে আসেন। বিরাট কোহলির চাওয়াতে তাকে নিয়েই ভারতের বিশ্বকাপ দল সংযুক্ত আরব আমিরাতে যায়।

কোহলি আইপিএলে দুই ম্যাচ দেখে ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ে বলেছিলেন, “একজন বোলার ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করছে দেখলেও ভালো লাগে। এই ধরনের পেস বোলারদের জাতীয় দলে প্রয়োজন।”

গত আইপিএলে দুই ম্যাচ খেলা উঠতি তরুণ এবারে আইপিএলের তারকা।

বুধবার রাতে উমরান পাঁচ উইকেট পেয়েছেন গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে। দল হারলেও তিনি রয়েছেন আলোচনায়। পাঁচ উইকেটের চারজনই বোল্ড হয়েছেন উমরানের বলে, তার গতি সামলাতে রীতিমত হিমশিম খেয়েছেন ব্যাটসম্যানরা।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রতি ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গতির বলের জন্য যে এক লাখ রুপি পুরস্কার দেয়া হয়, সেই পুরস্কার উমরান পেয়েছেন টানা আট বার।

টানা ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করে যেতে পারেন জম্মু-কাশ্মীর দলের হয়ে খেলা এই ফাস্ট বোলার। গত ম্যাচে গুজরাটের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ঋদ্ধিমান সাহাকে ছুড়েছেন ১৫৩ কিলোমিটার গতির এক ইয়র্কার।

ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর দেয়া পরিসংখ্যান বলছে, এই ফাস্ট বোলার ২০২২ সালের আইপিএলে ৯১ শতাংশ বল ১৪০ কিলোমিটার বা তারচেয়ে বেশি গতিতে ছুড়েছেন।

এখন পর্যন্ত মাত্র ২ দশমিট ৮ শতাংশ বল ১৩০ কিলোমিটার গতির কমে করেছেন তিনি।

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ইরফান পাঠান উমরান মালিককে গতির রাজা বলে আখ্যা দিয়েছেন।

নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেটোরি উমরান মালিককে নিয়ে আইপিএলের ম্যাচ বিশ্লেষণ অনুষ্ঠানে বলেছেন, “এমন বোলাররা ব্যাটসম্যানদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়। ব্রেট লি, শোয়েব আখতার, শন টেইটের পরে এই জাতের বোলার খুব কমই এসেছে।”

তাকে ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ বলছেন ভেটোরি। তবে উমরানকে নিয়ে সাবধানও করে দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।

উমরানের ইকোনমি রেট

এই ধরনের বোলারদের প্রবনতাই থাকে জোরে বল করার। এতে করে অনেক চাপ পড়ে মস্তিষ্কে এবং শরীরে। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড ও ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির উচিত ওর দিকে বাড়তি নজর দেয়া, বলেছেন তিনি।

আরেক সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার হরভজন সিং লিখেছেন, উমরান অসাধারণ এবং সে প্রতি ম্যাচে নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

পরিসংখ্যানও তাই বলছে – শুরুতে ওভার প্রতি ১০-এর ওপরে রান দেয়া উমরান গত ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ২৪ রান দিয়ে।

নিজের ইকোনমি রেট ১০.৪৩ থেকে ছয় সাতের মাঝামাঝি নামিয়ে এনেছেন এরই মধ্যে।

ক্রিকেট র‍্যাংকিংয়ে ভারতের ক্রিকেটারদের ছড়াছড়ি, বড় বড় নাম। কিন্তু টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে হারের পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ভরাডুবি ভারতের নির্বাচক প্যানেলকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও আইপিএলের ধারাভাষ্যকারেরা মনে করেন, ভারতের টিম ম্যানেজমেন্টের ‘সামনে এখন অনেক প্রশ্ন’ এবং উমরান মালিকই এখন ‘ভারতের সমাধান’।

পাকিস্তানেও আলোচনা রয়েছে এই ফাস্ট বোলারকে নিয়ে। পাকিস্তানের ক্রিকেট পরিসংখ্যানবিদ মাজহার আরশাদ সাবধানও করে দিয়েছেন দেশটির ব্যাটসম্যানদের।

“পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের উচিত উমরান মালিকের দিকে নজর রাখা। অক্টোবরের ২৩ তারিখ মেলবোর্নে এবং তার আগে এশিয়া কাপে উমরানের মুখোমুখি হতে পারে তাদের।”

ভারত স্কোয়াডে উমরানকে চান সমর্থকরা

এ বছর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিশ্ব আসর হবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। এরই মধ্যে টুইটার ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতের ক্রিকেট সমর্থকদের অনেকে আওয়াজ তুলছেন উমরানকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে নেয়ার।

হারশা ভোগলে টুইটারে লিখেছেন, “জম্মুতে স্কাউট পাঠানো উচিত। উমরান যেখান থেকে এসেছেন সেখানে আরও এমন বোলার থাকতে পারে।”

ভারতের টেনিস খেলোয়াড় মহেশ ভূপাতি লিখেছেন, “একজন তারকা জন্ম নিল #উমরানমালিক।”

এরই মধ্যে তিনি প্রতিপক্ষের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠছেন।

উমরান মালিকের এবারের সাফল্যের পেছনে উঠে আসছে গত দশকের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সফল বোলার ডেল স্টেইনের নাম।

দক্ষিণ আফ্রিকার এই তারকা সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ফাস্ট বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করছেন।

গত ম্যাচে শুভমন গিল, হার্দিক পান্ডিয়া, ঋদ্ধিমান সাহার উইকেট নেয়ার পর ডেল স্টেইনের মতো করেই উদযাপন করেন উমরান মালিক। সূত্র: বিবিসি বাংলা

Print Friendly and PDF
ব্রেকিং নিউজঃ