ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ভান্ডারিয়ায় বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ বারান্দার মেঝেতেও রোগী

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল, ২০২২ ৬:৫৪ : পূর্বাহ্ণ

গ্রীষ্মকালের তীব্র তাপপ্রবাহে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় বাড়তে শুরু করেছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। যার প্রভাব পড়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পর্যাপ্ত জনবল ও জায়গা না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আটটি মেডিকেল টিম কাজ করছে। প্রতিটি টিমে তিনজন সদস্য রয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডসহ সাধারণ শয্যাও ফাঁকা নেই। ওয়ার্ডের ভেতর জায়গা না পেয়ে রোগীদের বারান্দার মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এমনকি হাসপাতালে সিঁড়ির রুম পর্যন্ত ফাঁকা নেই।

এদিকে হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কোনো কর্মচারী নেই। ফলে হাসপাতালে নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। হাসপাতালের এ অবস্থা দেখে উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম তাঁর ব্যক্তিগত মিরাজুল ইসলাম ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ছয়জন জনবল দিয়ে সহায়তা করেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে সরেজমিন দেখা গেছে, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা কোনো ওয়ার্ড নেই। সাধারণ রোগীদের ওয়ার্ডে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আলাদা করে ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে। তবে প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় শয্যা না পেয়ে ওয়ার্ডের মেঝে ও হাসপাতালের বারান্দায় তাঁদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

উপজেলার গাজীপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ছেলেকে নিয়ে দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর চাপ, শয্যাসংকট ও ভ্যাপসা গরমে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

কাঠালিয়া উপজেলার বিনাপানির বাসিন্দা শাহিনুর বেগম বলেন, ‘নাতিকে নিয়ে ভোররাতে হাসপাতালে এসেছি। হাসপাতালে কোনো শয্যা নেই। তাই মেঝেতে বসে চিকিৎসা নিচ্ছি। হাসপাতালের টয়লেট ও মেঝে নোংরা। বারান্দায় নেই কোনো ফ্যান। এমন অবস্থায় এখানে থাকা অনেক কষ্টকর।’
সিনিয়র নার্স আরিফা বলেন, ‘৫০ শয্যা থেকে বর্তমানে ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও এই হাসপাতালে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা চলছে। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। জনবলের প্রায় তিন গুণ ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি থাকায় সেবার মানোন্নয়নের চেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগী বৃদ্ধি ও শয্যাসংকটের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি জানান, ২৪ ঘণ্টায় ৮৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। ডায়রিয়ার এত রোগী একসঙ্গে ভর্তি হওয়ার কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ না দেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বর্তমানে ডাক্তার, স্যালাইন ও ওষুধের সংকট নেই।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন মো. হাসনাত ইউসুব জাকী বলেন, ‘জেলার ভান্ডারিয়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সাধারণত বছরের এই সময়টায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তবে আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধ ও স্যালাইন মজুত রয়েছে।’

Print Friendly and PDF
ব্রেকিং নিউজঃ