ঢাকা, রবিবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অববাহিকাভিত্তিক আন্তসীমান্ত নদীর পানি ব্যবস্থাপনার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২২ ১১:৩৮ : পূর্বাহ্ণ

সরকার পানির ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা অনুপ্রবেশ ও দেশের কিছু অংশে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যেতে দেখা যাচ্ছে। সরকার বৃষ্টির পানি সংগ্রহসহ প্রাকৃতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।

জাপানের কুমামোটো শহরে ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য পানি-সর্বোত্তম ব্যবহার এবং পরবর্তী প্রজন্ম’ প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী পানি সম্মেলনে আজ শনিবার সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা লবণাক্ততা ও পানি-প্রতিরোধী এবং খরা-সহনশীল ফসলের উন্নয়নে কাজ করছে এবং ইতিমধ্যে বেশ কিছু জাত উদ্ভাবন করেছে। আমরা আমাদের জলাভূমি রক্ষা করার জন্য একটি প্রতিবেশ ভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করছি। ‘আমরা আমাদের নদী গুলোকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিই।’

চলমান কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন উদ্যোগ ‘বিল্ড ব্যাক বেটারের’ জন্য একটি উন্নত পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আন্তসীমান্ত নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় অববাহিকাভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা করার জন্য আমাদের অবশ্যই ভালো অনুশীলন, জ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমন্বিত শক্তির বিনিময় ঘটাতে হবে এবং আন্তসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় অববাহিকাভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

শেখ হাসিনা জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহসহ আঞ্চলিক ও উপ আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

পানিকে জীবনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন এবং শান্তির সংস্কৃতির প্রচারের জন্য এটি মৌলিক।’ চলমান কোভিড-১৯ মহামারি থেকে ‘ভালোভাবে পুনরুদ্ধারের’ জন্য আমাদের সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসডিজিতে পানি সম্পর্কিত বিষয়সহ পানির ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারগুলো পূরণ করার জন্য তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ঋণী। তিনি বলেন, আমাদের যুবকদের অবশ্যই ক্ষমতায়িত করতে হবে যাতে তাঁরা দক্ষ ও টেকসই অন্তর্ভুক্তিমূলক পানি ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দিতে পারে।

২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি পানি সংক্রান্ত জাতিসংঘ উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের সদস্য ছিলেন। তখন ‘কল টু অ্যাকশন’ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

আগামী বছরে ওয়াটার অ্যাকশন দশকের মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা আমাদের অ্যাকশন এজেন্ডা বাস্তবায়নে একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘কুমামোটো ঘোষণা সেই প্রক্রিয়ায় একটি কার্যকর অবদান রাখবে।’

এই লক্ষ্যে বাংলাদেশে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, তাঁর সরকার পানি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমগ্র সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। দেশের ৮৫ শতাংশর বেশি মানুষের নিরাপদ পানীয় জল এবং উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগের অবসান ঘটিয়েছি। পানিবাহিত রোগের বিরুদ্ধে আমাদের অব্যাহত প্রচেষ্টা চলছে। আগামী মাস থেকে আমরা রাজধানীতে ২৩ লাখ কলেরা ভ্যাকসিন দেব।

পানি সংক্রান্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে ‘রোল মডেল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বন্যার নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, উপকূলীয় হোল্ডার, সবুজ বেষ্টনী, ভাসমান কৃষি, নদী খনন এবং শহরের ঝড়ের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বিনিয়োগের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং কমিউনিটিভিত্তিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্লাবন ভূমি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি স্থিতিস্থাপক এবং সমৃদ্ধ ব-দ্বীপ গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি ক্রস-সেক্টরাল বাংলাদেশ ডেলটা প্ল্যান ২১০০ তৈরি করেছি। আমাদের সরকার এই পরিকল্পনার অধীনে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংস্থান সংগ্রহের জন্য আগামী মাসে একটি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সম্মেলনের আয়োজন করছে।’

আমরা আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমি পুনরুদ্ধার ও উঁচু করার জন্য বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত পলির স্তূপ ব্যবহার করার জন্য উন্মুখ। তিনি বলেন, বাংলাদেশও ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রস্তুত রয়েছে।

Print Friendly and PDF
ব্রেকিং নিউজঃ